নাগরিক পোস্ট ডেস্ক
যুগে যুগে নারীর সাজে অনন্য অনুষজ্ঞ হয়ে এসেছে বাহারি ডিজাইনের নাকফুল। কখনও বিয়ের সাজের পরিপূর্ণতায়, আবার কখনও সামাজিক রীতিনীতির বাধ্যবাধকতায় বাঙালি নারীরা বেছে নিয়েছেন হরেক রকমের নাকফুল কিংবা নথ। তবে কালের বিবর্তনে নাকফুলের ডিজাইন ও ধরনের বেশ পরিবর্তন ঘটলেও, এর জনপ্রিয়তার কোনো কমতি দেখা যায়নি। এখনও অনেকেই কনের সাজ থেকে শুরু করে শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ বা প্যান্ট-টপ ও জাম্পস্যুটের সঙ্গেও পরছেন নানা ধরনের নাকফুল। ষোলো শতকে মোগল নারীরা সাজগোজে ব্যবহার করতেন ‘চাউস’ আকৃতির নাকফুল। তবে বাংলায় কালক্রমে ভারতীয় পশ্চিম ও উত্তর অঞ্চলের মতো প্রচলিত রিং বা নথ ধরনের নাকফুলের আবির্ভাব ঘটে, যা নতুন ধরন ও কারুকার্যে রূপ নিচ্ছে। যেমন মিনিমাল স্টাড থেকে মাঝারি স্টোনযুক্ত ডিজাইন।
সিম্পল স্টাড নাকফুল
এটি বিভিন্ন রঙের এক পাথরের নাকফুল। খুবই সহজলভ্য ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হওয়ায় আজকাল অনেকেই এটিকে ফ্যাশনের সঙ্গী করেন। সাধারণত এটি এক স্টোন বা দুই স্টোনের ডায়মন্ড কিংবা মুক্তার সঙ্গে রুপা বা সোনার কারুকার্যখচিত হয়ে থাকে। শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, টি-শার্ট, ফতোয়া– সবকিছুর সঙ্গেই এটি বেশ মানানসই।
নোলক
আগে গ্রামগঞ্জের বিয়েতে কনের অন্যতম অলংকার হিসেবে বাহারি ডিজাইনের নোলকের প্রচলন ছিল। অনেক ক্ষেত্রে বংশপরম্পরায় এর অস্তিত্ব বহনে ব্যবহার করা হতো। আজকালও সেই ধারাবাহিকতা অনেকটাই রয়ে গেছে। অনেকেই নিজের ফ্যাশন ট্রেন্ডে এটিকে সঙ্গী করেছেন। এখন শুধু বিয়ের কনের সাজে এটি সীমাবদ্ধ নয়, কেউ কেউ শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, কুর্তি, ওয়েস্টার্ন ও ফিউশন পোশাকে স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে এটিকে বেছে নিচ্ছেন।
নথ
আজকাল নাকফুলের জনপ্রিয়তা যেমন বেড়েছে, তেমনি নথের ব্যবহারও কম নয়। নাকফুলের পাশাপাশি তাদের সাজগোজের পছন্দের তালিকায় নথের উপস্থিতি অনেকটাই উল্লেখযোগ্য। উজ্জ্বল জ্যামিতিক গঠনের নথ বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে গোলাকার, ত্রিকোণাকার ও চৌকোণাকার ধারায়। স্বর্ণের কারুকার্যের পাশাপাশি এতে ব্যবহৃত হচ্ছে বিভিন্ন স্টোন, অ্যান্টিক ডিজাইন, রুপা, মুক্তা ও হীরা। জিন্স-ক্রপ টপ, শাড়ি, সালোয়ার-কামিজসহ সবকিছুর সঙ্গেই এটি ব্যবহার করা হচ্ছে।
মারাঠি নথ
এ নথটি মারাঠি নারীরা ব্যবহার করলেও আজকাল ফ্যাশন জগতে খুবই ট্রেন্ডি হয়ে উঠেছে। এটি সাধারণত স্বর্ণ, মুক্তা ও লাল-সবুজ পাথর দিয়ে তৈরি করা হয়। ট্র্যাডিশনাল পোশাকের সঙ্গে এ ধরনের নথ বেশ মানানসই।
ট্রাইবাল নথ
এ ধরনের নথগুলো হরেক রঙের পাথর আর পার্ল দিয়ে তৈরি করা হয়, যা দেখতে চকচকে ও রঙিন। শাড়ি, লেহেঙ্গা ইত্যাদি যে কোনো আউটফিটের সঙ্গে ট্রাইবাল নথ সাজের পরিপূর্ণতা বজায় রাখে।
যেভাবে নির্বাচন করবেন
হরেক রকমের নাকফুলের ডিজাইন ও গঠন আলাদা আলাদা হয়; যা সব ধরনের মুখের সঙ্গে মানায় না। এ ক্ষেত্রে মুখের শেপ অনুযায়ী সঠিক ধরনের নাকফুল নির্বাচন করতে হবে। মুখের আকৃতি ছোট হলে নাকফুল হবে ছোট, মুখের আকৃতি বড় হলে নাকফুলও হবে বড়। আবার পোশাক ও মেকআপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সঠিক নাকফুল বেছে নিতে হবে। ফ্যাশনে নাকফুল বা নোজ পিন হাইলাইট করতে চাইলে হালকা মেকআপ করাই ভালো।
বর্তমান ট্রেন্ড
এক সময় নাকফুল শুধু বিবাহিত নারীরা পরলেও বর্তমানে সব বয়সের নারীরা এটিকে নিত্যদিনের সঙ্গী হিসেবে ব্যবহার করছেন। বলিউডের সেলিব্রিটি থেকে শুরু করে আমাদের দেশের অভিনেত্রী, মডেল ও বিভিন্ন বয়সের তরুণীদের মধ্যে এটিকে ফ্যাশন ট্রেন্ড হিসেবে ব্যবহার করতে দেখা যাচ্ছে।
কোথায় পাবেন
স্বর্ণের ও হীরার সব ধরনের নাকফুল পাবেন ঢাকার বসুন্ধরা সিটি শপিং মল, ইস্টার্ন প্লাজা, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড, আড়ং বা যে কোনো জুয়েলারি দোকানে। এ ছাড়া ইমিটেশনের নথ বা নাকফুল পাওয়া যাবে ঢাকার নিউমার্কেট, চকবাজার ও গাউছিয়ায়।
দরদাম
স্বর্ণের নথ পাবেন ৮০০ থেকে এক হাজার ৭০০ টাকার মধ্যে। স্বর্ণের সঙ্গে বিভিন্ন পাথর বসানো নাকফুল পাবেন ৭০০ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকায়। স্বর্ণের প্রলেপ দেওয়া রুপার নাকফুল পাবেন ২০০ থেকে ৪০০ টাকায়। স্বর্ণ-রুপার মুক্তা বসানো নাকফুল পাবেন ৭০০ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকায়। বিভিন্ন ডিজাইনের হীরার নাকফুল নিতে চাইলে গুনতে হবে আকৃতিভেদে চার হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত।


