নিজস্ব প্রতিবেদক
মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেলের ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল কাজের ঠিকাদার নিয়োগ দিয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। দরপত্রে প্রাথমিকভাবে প্রস্তাবিত ব্যয়ের চেয়ে এই কাজের জন্য ১৮৫ কোটি টাকা কমে চুক্তি হয়েছে।
বুধবার (২৯ অক্টোবর) সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০১৮ সালে জমা দেওয়া দরপত্রের ভিত্তিতে মারুবেনি–এলঅ্যান্ডটি কনসোর্টিয়ামকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের সংশোধিত উন্নয়ন প্রস্তাবে (আরডিপিপি) এই খাতে ২৭৪ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও, জুলাই ২০২৩ সালে ওই প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবিত মূল্য ছিল প্রায় ৬৫০ কোটি টাকা।
অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশে ডিএমটিসিএল সফল দর-কষাকষির মাধ্যমে কাজের মূল্য ৪৬৫ কোটি টাকায় নামিয়ে আনে। এর ফলে প্রায় ১৮৫ কোটি টাকা সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্পের মেয়াদও এক বছর বাড়ানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল কাজও করেছে একই প্রতিষ্ঠান। ফলে মতিঝিল থেকে কমলাপুর অংশে সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন সহজ হবে।
জাইকার অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং চুক্তি অনুযায়ী জাইকার মনোনীত ঠিকাদার দিয়েই কাজটি সম্পন্ন হবে।
সরকারের ব্যয় যৌক্তিকীকরণ নীতির অংশ হিসেবে শুধু এই চুক্তিতেই নয়, সাম্প্রতিক সময়ে মেট্রোরেল প্রকল্পে বিভিন্ন খাতে সাশ্রয় হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়, গত আগস্টের আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত কাজীপাড়া ও মিরপুর-১০ স্টেশন মাত্র ১৮ কোটি টাকায় আড়াই মাসে মেরামত করা হয়েছে, যা আগের সরকারের সময়ে ৩৫০ কোটি টাকায় এক বছরের বেশি সময় লাগার কথা ছিল।
মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে পিক আওয়ারে ট্রেনের ব্যবধান আট মিনিট থেকে কমিয়ে ছয় মিনিট করা হয়েছে; ডিসেম্বরের মধ্যে তা পাঁচ মিনিটে নামানো হবে। মেট্রোরেল চলাচলের সময়ও এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে।
ভাড়া-বহির্ভূত আয় বাড়াতে স্টেশন ও ট্রেনে ব্যাংক, এটিএম বুথ, বাণিজ্যিক স্থান ও ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের লক্ষ্যে ১০ মেগাওয়াট ক্ষমতার সোলার প্যানেল স্থাপনের চুক্তিও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।


